সৃজনশীল কর্মের নেপথ্য সাধনা ও সামাজিক মূল্যায়নের আকুতি: পপি কর

  শিল্প ও সংস্কৃতির উৎকর্ষ অর্জনে একজন সৃজনশীল কর্মীর দীর্ঘমেয়াদি আত্মত্যাগ, নীরব সাধনা এবং বর্তমান সমাজে সেই কাজের সঠিক মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুচিন্তা প্রকাশ করেছেন ‘পিকে মিউজিক স্কুল’ (PK Music School)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর পপি কর (Popy Kar)।

সৃজনশীল কর্মের নেপথ্য সাধনা ও সামাজিক মূল্যায়নের আকুতি: পপি কর

লেখাটিতে তিনি উল্লেখ করেন, সৃজনশীল অধ্যয়ন বা কাজ কখনোই কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমায় বাঁধা সম্ভব নয়। সাধারণ পেশায় নির্ধারিত কাজের ঘণ্টা থাকলেও শিল্পচর্চায় চিন্তা, রেওয়াজ, আত্মসমালোচনা ও প্রস্তুতির প্রক্রিয়াটি চলে নিরবচ্ছিন্নভাবে। একজন কণ্ঠশিল্পীর কয়েক মিনিটের পরিবেশনার পেছনে থাকে বছরের পর বছর কঠোর সাধনা, নিয়মিত রেওয়াজ ও ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের ত্যাগ। একইভাবে কবি, আবৃত্তিশিল্পী, অভিনেতা ও উপস্থাপকদের মঞ্চের অল্প কিছু মুহূর্তের পারফর্ম্যান্সের পেছনে থাকে গভীর পর্যবেক্ষণ, চরিত্র বিশ্লেষণ, গবেষণা ও মানসিক শ্রম।

তিনি চলচ্চিত্রের মতো বহুমাত্রিক শিল্পের জটিলতার কথা তুলে ধরে বলেন, দর্শক পর্দায় কেবল কয়েক ঘণ্টার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, কিন্তু তার নেপথ্যে থাকে পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, চিত্রগ্রাহক, সম্পাদক ও প্রযুক্তিবিদসহ বহু মানুষের দীর্ঘ পরিকল্পনা, প্রতিকূল পরিবেশের সাথে লড়াই এবং সমন্বিত শ্রমের গল্প। একটি বিশ্বস্ত নির্মাণ সমাজ ও ইতিহাসের মূল্যবান দলিল হিসেবে স্থান পায়।

দুঃখ প্রকাশ করে পপি কর জানান, সমাজের একটি অংশ এখনও সৃজনশীল কাজের পেছনের এই মানসিক ও শারীরিক শ্রম সম্পর্কে সচেতন নয়, যার ফলে অনেক সময় অসংবেদনশীল কিংবা ভিত্তিহীন মন্তব্য শুনতে হয়। একটি জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়ার জন্য দৃশ্যমান ফলাফলের বাইরে গিয়ে শিল্পীদের এই নিরলস সাধনা, ত্যাগ ও সামাজিক প্রভাবকে সম্মান জানানো অত্যন্ত জরুরি। কারণ শিল্প-সংস্কৃতিই একটি জাতির পরিচয় ও মানবিক চেতনাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে টিকিয়ে রাখে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সাল থেকে বিশ্বমঞ্চে বাংলা লোকসংগীত ও শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রসার ও সংরক্ষণে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন সংগীতশিল্পী ও নির্দেশক পপি কর।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url