সুর সাধক ও গবেষক পপি করের জীবন আলেখ্য

প্রাথমিক জীবনের সুর সাধনা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বাংলাদেশে বেড়ে ওঠার সুবাদে ছোটবেলা থেকেই সিলেটের গ্রামীণ লোকসংগীত ও সুরের আবহাওয়ায় পপি করের সংগীত জীবনের সূচনা হয়। ঐতিহ্যবাহী সুরের মূল শিকড়কে অনুধাবন করতে তিনি ভারতের মর্যাদাপূর্ণ আইসিসিআর (ICCR) বৃত্তির অধীনে কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কণ্ঠসংগীতে এমএ (Master of Arts) অর্জন করেন। সংগীত ও দৃশ্যের মেলবন্ধন ঘটাতে পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যের ‘বিশ্ববিদ্যালয় ফর দ্য ক্রিয়েটিভ আর্টস’ থেকে চলচ্চিত্র নির্মাণে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

বিশ্বমঞ্চে বাংলা লোকসংগীত ও সংস্কৃতির প্রসারে নিয়োজিত শিল্পী, গবেষক ও নির্মাতা পপি কর
বিশ্বমঞ্চে বাংলা লোকসংগীত ও সংস্কৃতির প্রসারে নিয়োজিত শিল্পী, গবেষক ও নির্মাতা পপি কর 

পেশাগত বিস্তার ও গণমাধ্যমে পদচারণা ২০১১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পপি কর বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) তালিকাভুক্ত লোকসংগীত শিল্পী হিসেবে এবং বাংলাদেশ বেতারে (জাতীয় রেডিও) জনপ্রিয় উপস্থাপক ও নাট্যশিল্পী হিসেবে নিয়মিত কাজ করেছেন। এছাড়াও তাঁর সংগীত পরিবেশনা ও সাক্ষাৎকার বিটিভি, এনটিভি, যমুনা টিভি, ডিবিসি নিউজ ও এটিএন বাংলার মতো জনপ্রিয় গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে।

প্রবাসে বাংলা লোকসংগীতের প্রচার ও সামাজিক উদ্যোগ যুক্তরাজ্যে অভিবাসনের পর পপি কর সেখানে দক্ষিণ এশীয় লোকসংগীত অঙ্গনে এক উজ্জ্বল পরিচিতি লাভ করেন। লন্ডনের বিভিন্ন মঞ্চে পরিবেশনার পাশাপাশি তিনি ‘উদীচী ইউকে’-র মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে গান শেখান। বাংলা লোকসংগীত ও শাস্ত্রীয় সংগীতের বিশ্বব্যাপী প্রচার, প্রসার ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে তিনি ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘পিকে মিউজিক স্কুল’ (PK Music School), যেখানে তিনি প্রতিষ্ঠাতা ও ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও ডিজিটাল দুনিয়ায় ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা ও মৌলিক সুর ছড়িয়ে দিতে তিনি পরিচালনা করছেন দুটি প্ল্যাটফর্ম—'Popy Kar Official' এবং 'PK Music Folk'।

সংগীতের ধারা, নারী ও সামাজিক মূল্যায়ন দর্শন পপি কর মূলত বাউল, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, ঝুমুর এবং বাংলার গ্রামীণ উৎসবের গান সাধনা ও পরিবেশন করেন। তাঁর গবেষণার মূল একটি দিক হলো লোকসংগীতে গ্রামীণ নারীদের অবদানকে তুলে ধরা, যাদের কথা ও সুর প্রায়শই মূলধারার ইতিহাসে উপেক্ষিত থেকে যায়।

সম্প্রতি তাঁর লেখা বিশেষ কলামে তিনি তুলে ধরেন যে, শিল্পীদের কয়েক মিনিটের মঞ্চ পরিবেশনার পেছনে থাকে বছরের পর বছর শারীরিক ও মানসিক শ্রম, তাত্ত্বিক গবেষণা এবং জীবনের বহু আনন্দ-স্বাচ্ছন্দ্যের ত্যাগ। চিত্রনাট্য থেকে শুরু করে একটি চলচ্চিত্রের পেছনেও থাকে শত মানুষের নিরলস প্রচেষ্টা। সৃজনশীল কাজের এই অন্তর্নিহিত শ্রম ও ত্যাগকে দৃশ্যমান ফলাফলের বাইরে গিয়ে মূল্যায়ন করার জন্য তিনি সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।

সাম্প্রতিক কাজ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ২০২৫ সালে বিলুপ্তপ্রায় বাংলা লোকসংগীত সংরক্ষণের অংশ হিসেবে তিনি ‘ফোক মিউজিক হেরিটেজ’ (Folk Music Heritage) শিরোনামে লাইভ ও স্টুডিও রেকর্ডিং সমৃদ্ধ একটি নতুন অডিও-ভিডিও অ্যালবাম সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি 'লোকসংগীত কিংবদন্তীর সাক্ষাৎকার' শীর্ষক একটি বিশেষ তথ্যচিত্র নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে কাজ করছেন।

সোশ্যাল মিডিয়া ও অফিসিয়াল লিংক:


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url