শীতের আমেজে বিছনাকান্দির পথে: পারিবারিক আনন্দ আর পাহাড়ি ঝর্ণার জলে
চাকরির সুসংবাদ ও শীতের ভোরে সফরের সূচনা ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাস। চারদিকে তখন মৃদু কুয়াশা আর মিষ্টি শীতের আমেজ। আমাদের পরিবারের জন্য দিনগুলো ছিল উৎসবের মতো, কারণ জেঠাতো ভাই সতীশ বাবুর ছেলে আমার ভাতিজা সাগরের বাংলাদেশ পুলিশে চাকরি হয়েছিল। পরিবারের নতুন প্রজন্মের এই বড় অর্জনের আনন্দ উদযাপনের জন্যই সবাই মিলে আয়োজন করলাম এক বিশেষ পারিবারিক ট্যুরের। গন্তব্য সিলেটের সীমান্তঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বিছনাকান্দি। গোয়ালাবাজারের চেনা ঠিকানা থেকেই নোয়া গাড়িতে চেপে শুরু হলো আমাদের যাত্রা।
গুগল ম্যাপের ট্র্যাক ও ঘরোয়া ভুনা খিচুড়ির তৃপ্তি গাড়ি যত এগোতে থাকল, শহুরে কোলাহল পেছনে ফেলে শীতের স্নিগ্ধ প্রকৃতি আমাদের অভ্যর্থনা জানাল। অচেনা বাঁক আর নতুন পথ চিনে নিতে আমাদের সঙ্গী ছিল গুগল ম্যাপের ট্র্যাকিং। পাহাড়ি হাওয়ার স্পর্শে সবাই মিলে আড্ডা আর হাসিখুশিতে মেতে উঠলাম। দুপুর নাগাদ পথচলতি এক সুন্দর পরিবেশে হালকা বিরতি নিলাম দুপুরের খাবারের জন্য। সাথে নিয়ে আসা ঘরোয়া পরিবেশে রান্না করা গরম গরম ভুনা খিচুড়ির সেই স্বাদ যেন ঠান্ডা আবহাওয়ায় এক পরম তৃপ্তি এনে দিল। পেটপুজো শেষে নতুন উদ্যমে আবার শুরু হলো ছুটে চলা।
বর্ডার সীমানা ও সিএনজির খোলা বাতাসে শেষ পথটুকু সীমান্তের একেবারে শেষ সীমানার দিকে পৌঁছাতেই বোঝা গেল নোয়া গাড়ি আর সামনে যাওয়ার উপায় নেই, কারণ পথটা বেশ খানাখন্দে ভরা ও মেঠো ধাঁচের। তাই গাড়ি পার্ক করে আমরা সবাই মিলে উঠে বসলাম স্থানীয় সিএনজিতে। সিএনজির খোলা হুড দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ছিল দূর পাহাড়ি বাতাস। পথের দুপাশের গ্রামীণ জীবন, দূরের উঁচু মেঘালয়ের পাহাড় আর মেঘের আনাগোনা দেখতে দেখতে একসময় পৌঁছে গেলাম কাঙ্ক্ষিত বিছনাকান্দিতে।
পাথুরে জলের মিলনমেলা ও ফ্রেমে বাঁধানো মুহূর্ত বিছনাকান্দির সেই দৃশ্য এক কথায় চোখ জুড়িয়ে দেওয়ার মতো। ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা শীতল স্বচ্ছ জলধারা, পাথুরে নদী আর ওপারে দাঁড়িয়ে থাকা সবুজ পাহাড়ের খাড়া দেওয়াল যেন প্রকৃতির এক নিখুঁত চিত্রকর্ম। শীতের মিষ্টি রোদে শীতল পাথরের ওপর দাঁড়িয়ে প্রকৃতির এই অপরূপ লীলা দেখে মন এক গভীর প্রশান্তিতে ভরে গেল। সাগরের সাফল্যের আনন্দ উদযাপনের সাথে যুক্ত হলো প্রকৃতির অপার রূপ। সবাই মিলে সেলফি তোলা, পরিবারের সবাইকে নিয়ে ক্যামেরায় ফ্রেমবন্দি করা আর হাসিমুখের সেই স্মৃতিগুলো আজও আমার মনের অ্যালবামে অমলিন হয়ে আছে। দিনশেষে একরাশ ভালো লাগা আর পরম তৃপ্তি নিয়ে আমরা পরিবারের সবাই সুস্থভাবে ঘরে ফিরে এলাম।

