কাব্যমঞ্চের অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতার গল্প নিয়ে কবি রেবিন চৌধুরীর নতুন কবিতা ‘উপহাস’

সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিবেদক: যুক্তরাস্ট্র প্রবাসী বিশিষ্ট কবি, গীতিকার ও সমাজসেবী রেবিন চৌধুরী নিয়ে এসেছেন তাঁর নতুন ভাবগম্ভীর কবিতা ‘উপহাস’। সাহিত্য অঙ্গনের আড়ম্বর ও বাহ্যিক আভিজাত্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা চরম অবহেলা, স্বজনপ্রীতি ও প্রকৃত শিল্পীদের মূল্যায়নের অভাবকে কেন্দ্র করে কবিতাটি রচিত হয়েছে।

কাব্যমঞ্চের অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতার গল্প নিয়ে কবি রেবিন চৌধুরীর নতুন কবিতা ‘উপহাস’
কাব্যমঞ্চের অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতার গল্প নিয়ে কবি রেবিন চৌধুরীর নতুন কবিতা ‘উপহাস’

কবি রেবিন চৌধুরী'র লিখা কবিতা "উপহাস"


সাহিত্য সম্প্রীতির কথা বলে 

লেখক, কবিরা জাত হিংসুটে নয়

তবে মানুষ মর্মান্তিক ভয়ংকর ও হয়। 

পৃথিবীর সর্বত্রই অগ্নিউপাসকের ভীড়

চোখে পড়ার মতো।

নক্ষত্রের একেকটা টাওয়ারের নীচে

বিভীষিকাময় নিকৃষ্ট মাতালদের দৌরাত্ম্য সবসময়ের । 

পৃথিবী লীলাবতী,এখানে নীরব নায়িকার অশ্রু ঢলে,

বিচ্ছেদের বেশুমার নদী বহে বারমাস। 

স্রোতস্বিনী হতে কে না চায়? 

স্রোতের প্রবাহ থামানোর চেষ্টাও কম হয় না, 

অধীকারের লড়াই করে জেতা খুব মুশকিল। 


এক কাব্যবিলাসীর অন্তহীন অপেক্ষা! 

সাহিত্যের সাম্পানে উপবিষ্ট  হয়ে

সুন্দরের আরাধনায় কাটছিল সময়

গল্পটা এক রাতের ছিল! 

মঞ্চে উপবিষ্ট সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ,

প্রধান অতিথি ঢাকার জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি । 

আয়োজকদের আমন্ত্রনে কাব্যবিলাসী

একটি নিবেদিত কবিতা লিখে নিয়ে এসে,

রেজিষ্টারের প্রথম পাতায় নাম ও লিখিয়েছিল

কবিতাটি পাঠের জন্য। 


বরাবরের মতো সঞ্চালক সিরিয়াল নাম্বার  অগ্রাহ্য করে

মঞ্চে অন্য সবাইকে একে এক করে ডেকে নিচ্ছেন । 

কাব্যবিলাসীর ডাক আসবেনা, এ বিষয়টি আঁচ করতে পেরেছে

তবুও কবিতার পঙক্তিগুলোর তাগিদে,

বারবার সঞ্চালককে ঈশারা করছিল! 

কিন্তু সঞ্চালকের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই

দৃষ্টি আকর্ষণ হয়েও হলোনা! 

প্রগতশীলের ভিতরেও মরীচিকার বসবাস

সুন্দরের পূজারীও সুন্দরের শত্রু  বটে ।


সঞ্চালকের বিচক্ষনতায় এড়িয়ে গেল নির্বাচিত নামটি।

আকাঙ্খার হোচট বড়ই বেদনাবিধুর এবং মুল্যবানও। 

অনুষ্ঠান প্রায় শেষের দিকে,রাতও এগারোটা তিরিশ বাজে। 

বরাবরের মতোই উপেক্ষেিত  হলো সে।

কাব্যবিলাসী ভাবছে, আহারে জ্ঞানপাপীরা

আমি তো ভেসে আসিনি, যতোখুশি ধাক্কা 

মোল্লার দৌড় ওই মসজিদ পর্যন্তই সেটা খুব ভালোই জানি। 

চাঁদের  মাথায় চন্দ্রবিন্দুই নাই,

মঞ্চের কতোই না  বড়াই। 

কত অসুন্দর হতে পারে মানুষ!


স্তম্ভিত হয়ে এসব ভাবছে, একসময়  যেন প্রকৃতিই এসে

বিষন্ন কব্যবিলাসীর কানে বলে গেল

যারা হীন তারাই লীন হয় তুমি চলেই যাও।


তার ও টনক নড়লো এবার

কিন্তু,স্বরচিত কাব্যগ্রন্থ প্রধান অতিথির হাতে দিতে হবে যে! 

অতঃপর,সঞ্চালককের অপেক্ষা না করেই

এক সুন্দরমনা সুহৃদ কে বললে তিনি ব্যবস্থা করে দিলেন।  

কবির হাতে বইটি উপহার দিয়ে ফিরছে কাব্যবিলাসি 

ঠিক তখনি ধিক্কার দিতে দিতে তার পরমাত্মায় বলে, নিশ্চয়ই 

সকল উপহাস ওদেরই ক্রোড়ে ওদেরই ক্রোড়ে।

‘উপহাস’ কবিতাটিতে কবি একজন আত্মনিবেদিত কাব্যবিলাসীর বাস্তব অভিজ্ঞতা চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। একটি সাহিত্য অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে স্বরচিত কবিতা পাঠের আকুলতা এবং সঞ্চালক কিংবা আয়োজকদের উদাসীনতায় উপেক্ষিত হওয়ার যে মনস্তাত্ত্বিক বেদনা, তা অত্যন্ত দরদ ও ক্ষোভের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।

কবিতার চরণে কবি লিখেছেন, “সাহিত্যের সাম্পানে উপবিষ্ট হয়ে সুন্দরের আরাধনায় কাটছিল সময়... প্রগতশীলের ভিতরেও মরীচিকার বসবাস, সুন্দরের পূজারীও সুন্দরের শত্রু বটে।”

লেখকের মতে, সাহিত্য যেখানে সম্প্রীতি ও সুন্দরের কথা বলে, সেখানে মঞ্চের কিছু মানুষের হীনমনস্থতা ও অহংকার সাধারণ শিল্পীদের বারবার ধাক্কা দেয়। তবে সব অবহেলা পেরিয়েও শিল্পের সত্য ও সুন্দরের জয় হবে—এই আত্মবিশ্বাস ও প্রতিবাদের বার্তা নিয়েই শেষ হয় কবিতাটি।

প্রবাসী হয়েও বাংলা সাহিত্যচর্চায় রেবিন চৌধুরীর এই আত্মনিয়োগ ও স্পষ্টভাষী লেখনী ইতিমধ্যেই প্রবাসী ও দেশীয় পাঠক মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url