এমএজি ওসমানীর ৫৪ বছর পর প্রতিমন্ত্রীর চেয়ারে হুমায়ুন কবির

বিশেষ প্রতিনিধি: স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীর দীর্ঘ ৫৪ বছর পর আবারও বঙ্গভবনে শপথ নিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কৃতিসন্তান হুমায়ুন কবির। সিলেটের ওসমানীনগরের প্রত্যন্ত হাবশপুর গ্রাম থেকে শুরু হওয়া পথচলা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল পেরিয়ে এবার পৌঁছে গেল রাষ্ট্র পরিচালনার শীর্ষ পর্যায়ে।

​প্রথিতযশা রাজনীতিক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতি বিশেষজ্ঞ হুমায়ুন কবির গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নতুন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে বঙ্গভবনের ঐতিহ্যবাহী দরবার হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁকে এই শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়।

​ওসমানীনগরের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে এই ঘটনাটি এক বিরল ও আনন্দঘন মুহূর্ত নিয়ে এসেছে। এর আগে মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এবং তত্কালীন অবিভক্ত বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরের সন্তান জেনারেল এম এ জি ওসমানী স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। দীর্ঘ ৫৪ বছর পর হুমায়ুন কবিরের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো মন্ত্রী পেলেন ওসমানীনগরবাসী।

​ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের হাবশপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া হুমায়ুন কবির শৈশবেই যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) সম্পন্ন করার পর লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স (এলএসই), ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজ এবং লিডস ল স্কুল থেকে পৃথক তিনটি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

​যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে তিনি লন্ডনের মেয়রের কার্যালয়ে কৌশল সহকারী, লিউইশাম এক্সিকিউটিভ মেয়রের কেবিনেট উপদেষ্টা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও ঋষি সুনাকের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও বিচার মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে দেশে ফিরে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী) হিসেবে দায়িত্ব পান। এর আগে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছিলেন।

​জেনারেল ওসমানীর অর্জনের পর পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে হাবশপুরের আরেক সন্তান রাষ্ট্র পরিচালনার শীর্ষ পর্যায়ে দায়িত্ব পাওয়ায় সমগ্র ওসমানীনগরজুড়ে এখন বইছে আনন্দের বন্যা ও উৎসবের আমেজ।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url