আব্দুল আলীমের সৃষ্টিকে বাঁচিয়ে রাখতে ডিজিটাল আর্কাইভ ও গবেষণা জরুরি: পপি কর

বাংলাদেশের লোকসংগীতের ঐতিহ্য বিনির্মাণে এবং মাটির সুরকে জাতীয় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে কিংবদন্তি শিল্পী আব্দুল আলীমের অবদান কালজয়ী বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংগীতশিল্পী ও গবেষক পপি কর। অমর এই শিল্পীর প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক স্মৃতিচারণ ও মূল্যায়নধর্মী বক্তব্যে তিনি এই অভিমত তুলে ধরেন।

বাংলার লোকসংগীতের দিকপাল আব্দুল আলীম এবং তাঁর স্মৃতিচারণ ও মূল্যায়নকারী শিল্পী ও গবেষক পপি কর

পপি কর বলেন, পল্লীজীবনের সুখ-দুঃখ, নদীমাতৃক বাংলার জীবনবোধ, আধ্যাত্মিকতা এবং সাধারণ মানুষের অন্তর্গত অনুভূতিকে স্বতন্ত্র কণ্ঠশৈলীর মাধ্যমে অনন্য শিল্পরূপ দিয়েছিলেন আব্দুল আলীম। ১৯৩১ সালের ২৭ জুলাই জন্ম নেওয়া এই ক্ষণজন্মা সাধকের কণ্ঠে ভাটিয়ালি, মুর্শিদি, মারফতি ও দেহতত্ত্বের মতো গানগুলো নতুন প্রাণ পেয়েছিল। তিনি গ্রামীণ মৌখিক ঐতিহ্যকে আধুনিক সম্প্রচার, বেতার, গ্রামোফোন রেকর্ড ও চলচ্চিত্রের পরিসরে নিয়ে এসে নগরভিত্তিক সমাজেও সমানভাবে সমাদৃত করেছিলেন।

আব্দুল আলীমের গায়কির শক্তির কথা স্মরণ করে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর গানে অপ্রয়োজনীয় অলংকরণ ছিল না; বরং সুরের স্বাভাবিক প্রবাহ, আবেগঘন উচ্চারণ এবং দীর্ঘায়িত স্বরপ্রক্ষেপণ এক স্বতন্ত্র ব্যাকরণ তৈরি করেছিল। তাঁর গানে নদী ও মাঝি কেবল সুরের উপাদান নয়, বরং মানুষের জীবনসংগ্রাম ও আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শকের রূপক হিসেবে ধরা দিয়েছে।

১৯৭৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর এই গুণী শিল্পীর জীবনাবসান ঘটলেও তাঁর কণ্ঠ আজ লোকসংগীতের অন্যতম প্রধান মানদণ্ড হয়ে বেঁচে আছে বলে মন্তব্য করেন এই গবেষক। পপি করের মতে, শিল্পীর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা কেবল আনুষ্ঠানিক স্মরণসভার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। বিশ্বায়ন ও ডিজিটাল সংস্কৃতির এই যুগে আব্দুল আলীমের গান সংরক্ষণ, সঠিক স্বরলিপিকরণ, আধুনিক ডিজিটাল আর্কাইভ নির্মাণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণার মাধ্যমে তাঁর দর্শনকে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url