সাদিপুর বার্তায় শোভা রাণী বিশ্বাসের সমসাময়িক কবিতা ‘গুড়ো মাছের ছাও’ প্রকাশ

ঐতিহ্যবাহী সাহিত্য পত্রিকা 'সাদিপুর বার্তা'য় প্রকাশিত হয়েছে কবি শোভা রাণী বিশ্বাসের নতুন হাস্যরসাত্মক ও বাস্তবধর্মী কবিতা ‘গুড়ো মাছের ছাও’। মধ্যরাতে স্বামীর বাজার করে আনা এবং বাঙালি গৃহিণীর চিরচেনা মধুর খুনসুটির এক দারুণ চিত্র ফুটে উঠেছে এই কবিতায়।

সাদিপুর বার্তায় প্রকাশিত কবি শোভা রাণী বিশ্বাসের সমসাময়িক কবিতা ‘গুড়ো মাছের ছাও’।

কবিতাটিতে কবি অত্যন্ত চমৎকার ও সাবলীল ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন কীভাবে এক গভীর রাতে স্বামী পরম আহ্লাদে স্ত্রীকে ডেকে মস্তবড় এক ব্যাগ হাতে তুলে দেয়। স্ত্রী মনের আনন্দে দামী বোয়াল মাছের আশা করলেও ব্যাগ খুলে দেখতে পায় সস্তা পেয়ে স্বামী কেজি দশেক ছোট মাছ অর্থাৎ 'গুড়ো মাছের ছাও' নিয়ে এসেছে। মধ্যরাতে এই বিপুল পরিমাণ ছোট মাছ কাটার বিপত্তি এবং স্বামীকে সাথে নিয়ে সারারাত মাছ কাটার যে মধুর শাস্তি ও ভালোবাসার গল্প কবি এখানে বর্ণনা করেছেন, তা প্রতিটি বাঙালি সংসার জীবনের এক জীবন্ত রূপ।

সম্পূর্ণ গ্রামীণ আবহ ও ছন্দের মেলবন্ধনে লেখা এই কবিতাটি ইতিমধ্যেই পাঠকদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে। সুস্থ সাহিত্য চর্চা ও সমসাময়িক জীবনের গল্পকে কবিতার ছন্দে বাঁচিয়ে রাখতে 'সাদিপুর বার্তা' সবসময়ই স্থানীয় ও গুণী লেখকদের মেধা বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে।


 গুড়ো মাছের ছাও

শোভা রাণী বিশ্বাস

রাতদুপুরে স্বামী আমার ডাকল আদর করে,
ডাকটি শুনে প্রাণের মাঝে উঠলো সোহাগ ভরে।
মধুর সুরে ডাকটি শুনে গেলাম তাড়াহোড়া
প্রবল বেগে যেমনি চলে লাগাম বিহীন ঘোড়া।

স্বামীর খুশি দেখে আমি খুশি হলাম খুব,
শীতের সময় দেয় যেমনি গরম জলে ডুব।
বাইরে যেতেই মস্তবড়ো ব্যাগটা দিলো হাতে,
অবাক হলাম কি জানি কি আনলো গভীর রাতে।

বলল হেসে, দেখো দারুণ মাছ এনেছি আজ,
দেখলে তোমার কপাল থেকে উঠবে সুখের ভাঁজ।
স্বামী আমার লাইক করে বোয়াল মাছের পেটি,
এই ভেবেছি আনলো বুঝি অধিক দামে সেটি।

সাতেপাঁচ না ভেবে তাই ব্যাগে দিলাম উঁকি,
কৌতুহলে যেমনি দ্যাখে ছোট্ট খোকা-খুকি।
ব্যাগটা ধরে যেই ঢেলেছি গামলাখানার পর,
মোচড় দিয়ে উঠল বুকে কাঁপছি থরোথর।

রাতদুপুরে কেজি দশেক গুড়ো মাছের ছাও,
সস্তা পেয়ে এলাম নিয়ে রান্না করে দাও।
বলে দিলাম এসো কাটি আজকে সারা রাত,
সকাল হলে রান্না করে দেবো তোমার পাত।

ভেবেছো কি এমন সাজা চাপিয়ে মাথার পর,
ঘুমিয়ে যাবে আয়েশ করে আটকে দিয়ে ঘর?
সোনা আমার যাদু এসে বসো আমার পাশ,
হাতে হাতে কাটলে সুখে থাকবো বারো মাস।।
Next Post
No Comment
Add Comment
comment url