চট্টগ্রামে বদলি হলেও যে কারণে সিলেটকে আজীবন ভালোবাসবো: মোহাম্মদ বশীর
সিলেট বিভাগ থেকে চট্টগ্রাম বিভাগে বদলি হওয়ার পরও হৃদয়ে সিলেটের প্রতি গভীর টান ও ভালোবাসা প্রকাশ করে একটি বিশেষ কলাম লিখেছেন বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য মোহাম্মদ বশীর। ৩৬০ আউলিয়ার পূণ্যভূমি সিলেটের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, অর্থনীতি, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সিলেটিদের অসামান্য অবদানের ৩৫টি অকাট্য কারণ তিনি তাঁর লেখায় তুলে ধরেছেন।
![]() |
| ৩৬০ আউলিয়ার পূণ্যভূমি, ঐতিহ্য ও গৌরবের রূপময় সিলেট বিভাগ |
মোহাম্মদ বশীর তাঁর লেখায় উল্লেখ করেন, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব বিপিন চন্দ্র পাল থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানী—সবাই এই মাটির সন্তান। স্বাধীন বাংলাদেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার রূপকার সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, শাহ এম এস কিবরিয়া, আবুল মাল আব্দুল মুহিত এবং আন্তর্জাতিক এনজিও 'ব্র্যাক'-এর প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের মতো ব্যক্তিত্বরা সিলেটকে বিশ্বমঞ্চে সম্মানিত করেছেন।
তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, ব্রিটেনের পার্লামেন্টের প্রথম বাংলাদেশী এমপি রুশনারা আলী, আমেরিকার প্রথম বাংলাদেশী সিনেটর হাসিম ক্লার্ক এবং রাণীর অফিশিয়াল শেফ টমি মিয়া ও অলিম্পিক ২০১২-এর অফিশিয়াল ফুড সার্ভ করার গৌরবও সিলেটিদের হাত ধরেই এসেছে। এছাড়া বিজ্ঞান, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে ডঃ আবেদ, সায়মা আমিন, সৈয়দ মুজতবা আলী এবং হাসন রাজা, রাধারমণ ও শাহ আব্দুল করিমের মতো মরমী সাধকদের অবদান পুরো বিশ্বে সমাদৃত। ক্রিকেটে এনামুল হক জুনিয়রের প্রথম টেস্ট জয়ের নায়ক হওয়া থেকে শুরু করে সংগীতে শুভ্র দেব ও রেপ গানের জনক ফকির লাল মিয়ার শেকড়ও এই সিলেটে।
লেখক আরও উল্লেখ করেন, সিলেটের নিজস্ব 'নাগরী লিপি' এবং লোকসাহিত্য বাংলা সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। এত অবদানের পরও যারা সিলেটিদের খাটো করে দেখে, তাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নিজের অঞ্চলের পরিচয় দেওয়া কোনো দোষের নয়। দূর প্রবাসে যেমন সিলেটিরা এক টুকরো বাংলাদেশ গড়েছেন, ঠিক তেমনি চাকুরিসূত্রে দূর চট্টগ্রামে থাকলেও মন থেকে তিনি প্রতিনিয়ত সিলেটকে মিস করেন। তথ্যবহুল এই কন্টেন্টটি ঐতিহ্যবাহী সাহিত্য পত্রিকা 'সাদিপুর বার্তা'র পাঠকদের জন্য নিচে হুবহু প্রকাশ করা হলো।

