মক্কার স্মৃতি: সাফা-মারওয়া ও নবীজির (সা.) ঘরের জীবন্ত ইতিহাস নিয়ে ফয়ছল আহমেদ মালিকের ভ্রমণ কাহিনী
পবিত্র মক্কা নগরীর ঐতিহাসিক স্মৃতি এবং আধ্যাত্মিক ভাবগাম্ভীর্য নিয়ে 'সাদিপুর বার্তা'র সম্পাদক ও প্রকাশক ফয়ছল আহমেদ মালিকের কলমে উঠে এসেছে এক হৃদয়স্পর্শী ভ্রমণ কাহিনী। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পবিত্র ওমরাহ পালনের সময় সাফা-মারওয়া পাহাড় এবং নবীজির (সা.) স্মৃতিবিজড়িত জন্মস্থানের যে জীবন্ত ইতিহাস তিনি অনুভব করেছেন, তা পাঠকদের জন্য এক অনন্য উপহার।
![]() |
| পবিত্র মক্কা নগরীর সাফা-মারওয়া পাহাড় এবং নবীজির (সা.) স্মৃতিবিজড়িত ঘরের কল্পচিত্র (ওমরাহ ভ্রমণ: ফেব্রুয়ারি ২০২৩)। |
ভ্রমণ কাহিনীর প্রথম অংশে তিনি তুলে ধরেছেন কাবা শরীফের পূর্ব দিকে অবস্থিত ঐতিহাসিক সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের কথা। আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর স্ত্রী হাজেরা (আ.) ও শিশুপুত্র ইসমাইল (আ.)-কে যখন মক্কার জনমানবহীন মরুভূমিতে রেখে যান, তখন তৃষ্ণার্ত সন্তানের জন্য মা হাজেরা (আ.) এই দুই পাহাড়ের মাঝে পানির সন্ধানে সাতবার ছুটেছিলেন। তাঁর সেই অদম্য চেষ্টা ও আল্লাহর প্রতি অটল বিশ্বাসের পুরস্কার হিসেবে অলৌকিকভাবে সৃষ্টি হয় জমজম কূপ। মা হাজেরার সেই ত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়েই হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের জন্য এই দুই পাহাড়ের মাঝে 'সায়ি' করা অপরিহার্য। লেখক জানান, বর্তমানে এই ঐতিহাসিক পথটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং আরামদায়ক গ্যালারিতে পরিণত হয়েছে। সেখানে সবুজ ফ্লুরোসেন্ট বাতি দিয়ে সেই বিশেষ স্থানটি আজও চিহ্নিত করা আছে, যেখানে মা হাজেরা সন্তানের জন্য দৌড়েছিলেন।
ভ্রমণ কাহিনীর দ্বিতীয় অংশে ফয়ছল আহমেদ মালিক নবীজি (সা.)-এর পবিত্র জন্মস্থানের এক নিখুঁত ও আবেগময় চিত্র এঁকেছেন। মক্কার সেই অতি সাধারণ কাদা-মাটি আর পাথরে গাঁথা ছোট্ট ঘরটিতেই বেড়ে উঠেছিলেন মানবতার শ্রেষ্ঠ মানুষটি। খেজুর পাতার ছাদ দেওয়া সেই ঘরেই হযরত খাদিজা (রা.)-এর সাথে তাঁর শান্তিময় সংসার শুরু হয়। খাদিজা (রা.) অত্যন্ত ধনী হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা কোনো বিলাসী জীবন বেছে নেননি। এই সাধারণ ঘর থেকেই নবীজি (সা.) মানুষের দুঃখ-কষ্ট বুঝতেন, এতিমের মাথায় হাত রাখতেন এবং হেরা গুহায় ধ্যানের মাধ্যমে ওহির পবিত্র প্রস্তুতি নিতেন।
সময়ের আবর্তনে আজ সেই ঘরের বাহ্যিক রূপ না থাকলেও, এর ইতিহাস চিরজীবন্ত। ফয়ছল আহমেদ মালিক তাঁর লেখার শেষে এক দারুণ বার্তা দিয়েছেন—মর্যাদা আসে বড় ঘরে নয়, বরং বড় চরিত্রে। সরল জীবন, গভীর বিশ্বাস আর আল্লাহর প্রতি পূর্ণ ভরসাই ছিল নবীজির (সা.) ঘরের প্রকৃত ভিত্তি।

